5.10.14.11.04

প্রচলতি আছে ,হাতি নাকি তার বড় কানের জন্য প্রকান্ড শরীরটা দেখতে পারেন না। তাই তার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারানা-ই করতে পারছে না।
মানুষের বেলাতেও হয়তো কথাটা সত্য? মানুষও নিজের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারেনা। এতে ভাল এবং মন্দ দুটাই ঘটছে।
মানুষ সামনের দিকে তাকিয়ে থাকতে যতটা পছন্দ করে নিজের দিকে ততটা না। তাই অন্যের আচরন,পোষাক,কথা,হাঁটা সব কিছুই তার কাছে হাস্যকর ঠেকে। সব কিছুই নিজের সাথে তুলনা করে যাচাই করে।ধরে নেয় কেবল সে নিজেই সবচেয়ে পারফেক্ট। এটা হচ্ছে তার খারাপ দিক।
ভাল দিক হচ্ছে যদি মানুষ নিজের দিকে গভীর মনসংযোগ করতে পারতো,তবে নিজের দৈন্যতা দেখে এত বেশি বিমর্ষ হয়ে যেত যে স্বাভাবিক কাজ করায় বিঘ্ন ঘটতো।
অনেক গাড়ির পিছনে লেখা থাকে গাড়ির পিছনে লেখা থাকে ট্রাফিক আইন মেনে চলুন।অর্থাৎ এই গাড়িটা অন্য গাড়িকে ট্রাফিক আইন মেন চলার কথা বলছে,কিন্তু সে নিজের জন্য তা করছে না। তার মানে সে ভাবছে সে সব সময়ই ট্রাফিক আইন মেনে চলছে,যেটুকু আইন সে মানতে পারছে না সেটা আইনের সমস্যা তার নিজের না।

ইসলামী জঙ্গীপনা এবং নিজস্ব মতামত

অভিজিৎ রায় এবং পারভেজ আলম,এই দুইজনের প্রায় সব লেখাই পড়েছি এবং পড়ি,পারত পক্ষে কখনোই মিস করিনা।
অভিজিৎ দা যখন জঙ্গী উন্মাদনাকে ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ হিসেবে দেখে ধর্মকেই এর জন্য দোষি সাব্যস্ত করেন তখন মেনে নিতে পারি না। আবার পারভেজ আলম যখন জঙ্গীদের ‘সালাফি ইসলাম’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চায় তখনও মেনে নিতে পারিনা। সেই ভিত্তিতে আমার নিজস্ব একটা মত আছে। আর প্রকাশ না করতে পারলে মতামতের দুর্বলতাও তো ধরা পড়বে না।

মানুষ নানা লক্ষ্যে একত্র হতে পারে। প্রাথমিক দিকে রাষ্ট্র গুলো ধর্মের নাম না হয় রাজার নামে সৈনিকরা যুদ্ধ করতো। গ্রীকরা প্রথম জাতীয়তা বোঝ নিয়ে দেশের জন্য লড়াইয়ে নামে। আমরা একাত্তুরে বাঙ্গালী জাতীয়তা বোধ থেকে একত্র হয়ে পাকিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি।
জেরুজালের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস দেখলে আরব জাতীর উপর এক ধরনের ধারান জন্মে। হত্যা,খুন,লুটতরাজ এসব আরব জাতীর খুব সাধারন কালচার। এবং আরবের এই কালচার ধর্ম ভিত্তিক না,জাতী ভিত্তিক বলেই মনে হয়। ঐ অঞ্চলের প্রায় সব ধর্মের মানুষই কিন্তু বর্বরাতায় সমান।গাজার উপর ইজরাইলের আক্রমন,তাদের শিশুদের হত্যা সহ নানা অপকর্ম তো আছেই।(এখানে শুদ্ধ জাতি বলে কিছু বোঝাতে চাইছি না। এথেনিয়,রোমানরা যতই আক্রমন করোক,তাদের সাথে মিশে যাক কিন্তু আদতে আরবরা একত্রই ছিল।) অন্তত সমস্ত আরবের একটা কালচার আছে।

সভ্যতা কখনো সার্বজনীন হয়না। প্রতিটা জাতী,সময়,ভৌগলিক অবস্থানের জন্য আলাদা আলাদা হয়।গ্রীক সভ্যতার স্বর্ণযুগে পেরিক্লিসের শাসন আমল মানুষের সাঙস্কৃতিক মান অনেক উন্নত ছিল। ধারনা করা হয় শিল্প,সাহিত্য,সংস্কৃতির দিক দিয়ে পেরেক্লিসের আমল এতটাই উন্নত ছিল যা এই সময়ও অার আর্জন করা যায় নাই। কিন্তু সেই সময়টা ছিল দাশ প্রথার যুগ। দাস প্রথা সেই সময়ে অন্যায়,নিষ্ঠুর হিসেব ধরা হতো না।

প্রতিটা জাতীর সভ্যতার মাপকাঠি আপেক্ষিক। ইসলাম আসার আগে আরবরা কি সভ্য ছিল? ইতিহাস তা বলে না। সমস্ত পৃথিবী যেভাবে এগিয়ে গেছে আরবরা সেভাবে পারে নাই। জাতী হিসেবে তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান,শিল্প-সাহিত্যে অনেক পিছিয়ে আছে। জাতী হিসেবে তাদের পরিবর্তন কয়েক হাজার বছর আগে যা ছিল এখনো তার কাছাকাছিই আছে। শিরচ্ছেদ বিষয়টা আমাদের কাছে খুব বর্বর মনে হলেও আরবের মানুষের কাছে এটা সাধারণ ঘটনা,কারন তারা এটাতেই অভ্যস্ত। তাদের আবহাওয়া,জলবায়ু,মরুভুমি ইত্যাদি বিবেচনায় আনলে খুব সহজেই বুঝা যায় আমাদের সবুজ দেশের মানুষের মতো আবেগপ্রবন তারা নয়,আবার ইউরোপের মতো ঠান্ডামেজাজের গম্ভিরও না। তারা তাদের মতো ঐতিহাসিক ভাবে রুক্ষ। গোষ্টি প্রধান সমাজ ব্যবস্থা এখনো টিকিয়ে রেখেছে।

আমি কতটা সভ্য এটা যাচাই করা হবে নিশ্চয় আমার দেশের প্রেক্ষাপট অনুসারে। ইউরোপের একজন লোকের সাথে নিশ্চয় তুলনা হবে না। আমার দেশে যেখানে সেখানে চিপসের প্যাকেট ফেলতে পারি,থুথু ফেলতে পারি। কেবল এমন কয়েকটা বিষয় ইউরোপে হয়তো অসভ্যতা,কিন্তু আমরা অহরহ করি বলে এসব তেমন ঘৃনার দৃষ্টিতে দেখি না। আরবদেরও দেখতে হবে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে। ইউরোপের সাথে তুলনা করে নয়।

ভারতবর্ষ যখন সমৃদ্ধ ছিল ইউরোপের মানুষের কাছে তা ছিল লোভনীয়। কলম্বাস কেন ইন্ডিয়া আবিশ্বাকারের অভিযান চালিয়েছিল? ইংরেজরা এত পথ পাড়ি দিয়ে কেন ভারতবর্ষে এসেছিল? এই ভারতবর্ষ দখলে রাখার জন্য কত রকম নিকৃষ্টি পদ্ধতির আশ্রয় তারা নিয়েছে,জাতীতে ভাগ করে, ধর্মীয় দাঙ্গা উস্কে দিয়েছে। জাতিভেত,ধর্ম ভেদ এই অঞ্চলে বরাবরই ছিল কিন্তু বহুকাল যাবত তো মানুষ শান্তিতেই বসবাস করে আসছিল হঠাৎ কেন দুই দলে ভাগ তিন টুকরা হয়ে গেল? তখনই চলে আসে অর্থনৈতিক মুক্তির বিষয় ভারতবর্ষ ভাগ না হলে মুসলমানরা থাকতো পিছনে পড়ে, মুসলমান ব্যবসায়ী,ধনিক শ্রেনি হিন্দুদের সাথে প্রতিযোগীতায় পারছিলনা। তাই দেশ ভাগ করে নেয়াটা ছিল তাদের জন্য লাভজনক। আর সেই ধনিক শ্রেনির রাষ্ট্র ব্যবস্থা তা করতে দিয়েছে। হিন্দু মুসলমান ভাগ হয়ে যতটা ধর্মীয় লাভবান হয়েছে তার চেয়ে হয়েছে বেশি অর্থনৈতিক। তার মানে ধর্মের নামে বিবাজনের পিছনে উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক।

পাকিস্তানি ইস্পাহানির প্রধান চেয়েছিলেন শেখমুজিবকে ক্ষমতা দিয়ে পূর্বপাকিস্তানকে স্বায়িত্বশাসন দিয়ে দেয়া। কারন সে ব্যবসায়ী,রাজনৈতিক ঝামেলার কারনে তার ব্যবসা খারাপ যাচ্ছিল। আর দুই ভাগ হয়ে গেলে তার ব্যবসার বাজার কমে যাবে।অতএব ইসপাহানির সমর্থন আর বঙ্গবন্ধুর সমর্থন এক হলেও উদ্দেশ্য কিন্তু ভিন্নই ছিল।

আরব তেল সমৃদ্ধ দেশ হওয়ায়,সারা বিশ্বের কাছে একটা লোভনীয় স্থান। তাদের তেল লুট করার জন্য বিশ্বমোড়লরা মুখিয়ে আছে। ইরাক আক্রমন করা হয়েছে কোন যুক্তিতে? কিন্তু দেখা গেল খামখেয়ালীর মতো একটা যুক্তি দিয়ে একটা রাষ্ট্রকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে? আইএস বিষয়টাও আমার কাছে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বলেই মনে হয়। ১৯৭৩ সালে কিউবার সাথে পাট রপ্তানির খেসারত দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে দুর্ভিক্ষ দিয়ে। আম্রিকার নির্দেশ ছাড়া কিউবাতে একটি পাখিও যেতে পারে না। আরবের রাষ্ট্র গুলো আইএস এর বিরোধিতা করলেও তারা কি করে এই অস্ত্র,অর্থের যোগান পায়? কে দেয় তাদের অস্ত্র? এখনো পর্ন্ত সিআইএ কি এই তথ্য বের করতে পারে না?

আম্রিকা যেই সব দেশে হস্তক্ষেপ করেছে,সেখানেই জন্ম নিয়েছে একটি জঙ্গী সংগঠন। সিরিয়া,ইরাক তো আইএস,তুরস্ক,মিশর,লিবিয়া সব খানে স্যাকুলার থেকে আরো জঙ্গিপনার দিকেই ঝুকছে। কিন্তু কেন? আম্রিকা যদি মুক্ত করতেই যায় সেখানে স্যাকুলারিটির পতন ঘটে আর জঙ্গী উত্থান ঘটে কি করে?

আমার মতামত,সরা বিশ্বে ইসলামী জঙ্গীদের যে উন্মাদনা রয়েছে তার পেছনে হাত রয়েছে আম্রিকার। এবং আম্রিকার উদ্দেশ্য সফল করতে তারা ধর্মীয় জঙ্গীদের আশ্রয় নিয়েছে। ৭১ সালে স্যাকুলার বাংলাদেশের দিকে নয় ধর্মীয় পাকিদের পক্ষেই তারা সমর্থন দিয়েছিল।

তবে কথা থাকে অন্য অঞ্চলে জঙ্গীরা কেন সক্রিয়! সোভিয়েত ইউনিয়নে যখন সমাজতন্ত্রের ভিত্তি হয়,তখন অন্যান্য অঞ্চলেও তার প্রভাব পড়ে,অনেক ছোটখাট সমাজতান্ত্রিক মোভমেন্ট সারা বিশ্বেই দেখা যায়। সোভিয়েত পতনের পর আবার মিলিয়ে যায়। ইসলামী জঙ্গীদের বেলাতেও এটা এমন হতে পারে।

এডয়ার্ড সাইদ দেখিয়েছেন যে বিশ্বের যত সোসাই বোম্বিং হয়েছে তার বেশির ভাগই হয়েছে জাতীয়তাবাদী আদর্শ কেন্দ্র করে। ধর্মীয় আদর্শ কেন্দ্র করে হয়েছে সেই তুলনায় কম। যে কোন আদর্শ কেন্দ্র করেই চরমপন্থায় পোঁছানো যায় তখন এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক,জাপানি বোমারো বিমান এমন ভাবেই আক্রমন করেছিল, বাংলাদেশের অনেক মুক্তিযুদ্ধাদের এমন সাহসি কথাও আছে। শ্রিলংকার তামিল গেরিলারা অনেক সোসাইড বোম্বিং করেছে। প্রতিটা সেনাবাহিনীর সদস্যরা যখন যুদ্ধে যায় তখন মৃত্যু হতে পারে জেনেই যায়। এটাও এক ধরনের সোসাইড। কিন্তু কেন যায়,সেনাবাহিনির সদস্যরা কি পরকালের লোভে যায়? যে কোন বাহিনীর সদস্যদের এমন ভাবে উদ্বোধ্য করা হয় যখন মৃত্যুর তার কাছে কোন ব্যপারই মনে হয়না। আমি বলতে চাইছি ধর্মকে ব্যবহার না করেও এমন করা সম্ভব। সেই ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে,তার জাতীয়তা,দেশ প্রেম ইত্যাদি। আর ইসলামী জঙ্গীরা তাদের উজ্জেবিত করার জন্য ব্যবহার করছে কোরান,পরকাল ইত্যাদি।এই উজ্জেবিত করাটা যদি ভাইরাস আক্রান্ত হয় তাহলে পৃথিবীর সব সেনাবাহীনি ভাইরাস আক্রান্ত। আর এই সেনাবাহীনির পৃষ্ঠপোষক দেশ ও ভাইরাস আক্রান্ত? আমার তা মনে হয়না।

আর শুদ্ধ ইসলাম বলতে কোন চিজ নাই। যদি সালাফি ইসলামকে জঙ্গিপনার জন্য দায়ি করা হলে। শিয়া,সুন্নি,কাদিয়ানী,ওয়াহাবি ইত্যাদি নিজেদের মধ্য তো প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেই যাচ্ছে। তার যুক্তি কি থাকবে? সালাফিরা জঙ্গিপনা করছে কিন্তু অন্য দু একজন হয়তো মিউমিউ করছে এটা সত্য। কিন্তু এটাও সত্য যে খ্রিষ্টানদের আক্রমন করলে,হত্যা করলে অধিকাংশ মুসলিমরাই মনে মনে খুশি হয়? আম্রিকায় কুরান পুড়ালে,অথবা মোহাম্মদকে নিয়ে সিনেমা বানালে যেভাবে সারা বিশ্বে মুসলিমরা আন্দোলন করে। কিন্তু আইএস এর কার্যক্রম যদি ইসলাম বিরোধি হতো তবে তো একই রকম আন্দোলন দেখতে পেতাম। আমরা কিন্তু এমন কিছু দেখি নাই।
http://istishon.com/node/9659

বাংলা দশ ফানি গান

১। ডেগের ভিতরে চাইলে ডাইলে উতরাইলিগো সই..
সেই উতরানি মোরে উতরাইলি,শ্যাম বিরহ আমার আন্তরে
২।নাতি খাতি বেলা গেল ,শুতি পারলাম না,আরে ছদরুদ্দির মা
নাতি খাতি বেলা গেল শুতি পাইলাম না।
৩।এক গিরস্তের ঘরে ছিল এক হাস,সেই ঘরে অভাব যে ছিল বার মাস
একদিন সে হাসিটা পারলযে ডিম একটা,সেই নিয়ে গৃহস্তের মহা উল্লাস।
৪।আমার বাড়ি ছাগল নাইয়া রয়েল ডিস্টিক হেনি,
আন্নের বাড়ি দাগন ভুইয়া আন্নেরে আঁই চিনি,ভাইছাব ভালা আছেন নি।
৫।ওহ আমার হাসের ছাও রে…
৬।জয় জগা নন্দ,ঘটি বাটি বন্ধ,পয়সা নাই তাতে হৈসে কি?
তেলাকচু পাতা,টাকি মাছের মাথা,মসল্লা নাই তাতে হৈসে কি?
৭।তুমি টাঙ্গাইলের চমচম,বগুড়ার দই,নাটুরের কাঁচাকলা যশোরের কৈ
তুমি খুলনার নারিকেল,পাবনার ঘি,সিলেটের কমলা পান সুপারি।
৮।ইতা কিতা করে রে বাই, ই..তা কি…তা করে?
আরে পুরুষ হইয়া নারির পায়ে ধ..রে….
৯।বাঘ শিকার যাইমু,বাঘ শিকার যাইমু
বন্দুক লইয়া রেডি হইলাম আমি আর মামু।
১০। আরে মাইড্ডা কলসি,তোরে লই যাইয়ুম পানির লাই।

08.07.14

পশ্চিম জার্মানির রাজধানি নিয়ে আসা হয়েছে বন এ। বন শহরটা তখন খুব বড় ছিলনা এর জনসংখ্যা ১ লক্ষ দেখানোর জন্য দূরের কয়েকটি গ্রামকে অন্তভুক্ত করা হলো। সৈয়দ মুজতবা আলি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে আলাপ কালে বন,বর্তামান রাজধানি তার মতামত জানতে চাইল।
তিনি যুক্তি দিলেন, ঠিকই তো আছে, এখানে ফুল প্রচুর পরিমানে ফোটে, তরুনিরা সহৃদয়বান এবং ওয়াইন সস্তা।

টাকা হলে নিজের রুমে একটি মিনিবার বানাবো। আরো টাকা হলে সত্যজিৎ রায় এর “হিরক রাজার দেশে” এর মতো একটি সিনেমা বানাতে লেগে যাব। তার পরেও হাতে সময় থাকলে বিনয়কৃষ্ণ মজুমদার(যাযাবর) এর “দৃষ্টিপাত”এর মতো ছোট একটি বই লিখবো। যদি আরো কিছু সময় হাতে থাকে তাহলে সুকুমার রায়ের ছাড়া গুলো পড়তে পড়তে পড়তে………….।

ক্লাইভ বেল

হুমায়ুন আহমদের একটি আড্ডা ছিল ওল্ড ফুল ক্লাব। আমারও এমন একটা ক্লাব করার খুব ইচ্ছা আছে।
১৯০৬ সালে ব্রিটেনে এমন একটি ক্লাব ছিল তার নাম ব্লু মসবেরি গোষ্ঠি (Bloomsbury Group)।সেই আড্ডায় বার্ট্রান্ড রাসেল,ইএম ফস্টার,ডি.এইচ লরেন্স এই রকম বিখ্যাত মানুষেরা মিলিত হতেন। এদের এক সদস্য তার নাম ক্লাইভ বেল। তিনি বিয়ে করেন ভার্জিনিয়া উলফের বোন ভানেসা কে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার পরে ক্লাইভ বেল একটি বই লিখেন নাম দেন Civilization,এই বইটি উৎসর্গ করেন ভার্জিনিয়া উলফকে।
ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত, মার্জিত লোকের ধর্ম” এই লাইন টা মোতাহের হেসানের চৌধুরির “সাংস্কৃতি কথা” প্রবন্ধের। আামার ধারনা এই প্রবন্ধের বইটি তিনি এই সিভিলাইজেশান(সভ্যতা) বইটা থেকেই অনুপ্রানিত হয়েছিলেন।
সভ্যতা নামে ক্লাইভের বইটাও তিনি আবার বাংলায় প্রকাশ করেন। একে ঠিক অনুবাদ বলা যাবে না বলতে হবে অনুসরনে লিখেন,সহজ ভাষায় সভ্যতা বইটা প্রথম লেখেনে ক্লাইভ বেল এবং দ্বিতীয়বার লেখেন মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
এই সভ্যতা বইটার ব্যপারে লেখার সক্ষমতা আমার নাই,তবু দুঃসাহস নিয়ে শুরু করবো ভাবছি। সে যাই হোক। আমার মানুষ এই সময়ে এসেও কতটা সভ্য,কতটা সুসভ্য,কতটা মানবিক এই বিষয় গুলো বুঝতে সহায়তা করতে পারে।আমরা নিজেকে নিয়ে যে গর্ব করি তার ভিত্তি কত নড়বড়ে বইটি পড়ার পরে হতাশই হয়েছি।
ছোট একটা বই,মাত্র ৭৫ পৃষ্ঠার,প্রকাশক:বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

এনাক্সোগোরাস

এনাক্সোগোরাস খ্রিষ্ট্রপূর্ব ৫০০ অব্দে জন্মগ্রহন করেন।
তার সময়ে ধর্মের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি মতামত দেন সূর্য হচ্ছে একটা আগ্নেয় প্রস্তর খন্ড এবং চন্দ্র হচ্ছে মাটি দিয়ে তৈরি।এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ধারনা করা হয় মামলায় তিনি কারারুদ্ধ হন এবং পেরিক্লিস তাকে মুক্ত করে এথেন্স থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। তিনি আইওনিয়ায় চলে এসে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং তার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিদ্যালয় বন্ধ রাখার কথা বলে যান।
এনাক্সোগোরাস মনে করতেন প্রতিটা বস্তুই অনন্তরুপে বিভাজ্য এবং প্রতিটা ক্ষুদ্র অংশে প্রতিটি উপাদানের কিছু অংশ বিদ্যমান। যে দ্রব্যে যে উপাদান বেশি সে দ্রব্য সেভাবে প্রতিয়মান হয়।
তিনি মৃত্য এবং জীবিত বস্তুর মধ্যে পার্থক্য করেন,মৃত বস্তুর মধ্যে মন ব্যতিত সব উপদান রয়েছে। তিনি মনে করেন সমস্ত গতির উৎস মন। মানুষ এবং সব প্রাণির মন একই রকম। এরিস্টটল এবং প্লেটো সক্রেটিসগন অভিযোগ করেন যে এনাক্সোগোরাস মনের ধারণা প্রবর্তন করলেও এর সদ্ব্যবহার করতে পারেন নাই।

এনাক্সোগোরাসই প্রথম অন্যের আলোতে চাঁদের আলোকিত হওয়া ব্যাখ্যা করেন। এবং চন্দ্র গ্রহনের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন। তিনি সূর্য এবং নক্ষত্র পুঞ্জকে আগ্নেয় প্রস্তুর খন্ড ভাবতেন এবং বলতেন তারা বহু দূরে অবস্থান করার কারনে ছোট দেখায়। তিনি তুলনা করেন গ্রিসের পেলোপননেসাস উপদ্বীপের তুলনায় সূর্য্য অনেক বড়। চাঁদে পাহাড় এবং জীবজন্তু আছে এমন বিশ্বাস করতেন।

এনাক্সোগোরাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঈশ্বর বিশ্বাস করতেন না। তার তত্বে কোন ঈশ্বরের অস্তিত্ব ছিলনা। তাকে নাস্তিক আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তার অবদান খুব বেশি না হলেও তিনি বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধবাদী দর্শনের চর্চা করেন। তার সময়ে তিনিই একমাত্র যে ধর্মীয় প্রভাব দ্বারা দর্শন ব্যাখ্যা করেন নাই।

চিকিৎসা পেশাকে অন্য পেশার সাথে মিলানোর সুযোগ নাই্।

সব পেশাতে দুটি গুন থাকা আবশ্যক। এক উপার্জন করার ক্ষমতা আর দ্বিতীয়ত দায়িত্ব বোধের কর্তব্য।
সব পেশাই উপার্জন ক্ষম কৌশল গুনটি আছে কিন্তু কিছু পেশার ক্ষেত্রে তার উপর আরো একটি ব্যপার থাকে তা হলো দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধ।
আইন,সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা এবং ডাক্তার এই চারটি পেশাকেই যদি তুলনা করি তবে দেখতে পাবো প্রথম তিনটি পেশায় যে যতটা দায়িত্বের প্রশ্ন চতুর্থটির বেলায় তা অনেক গুন বেশি। এই কোন বিবেচনায়! কারন এখানে মানুষের জীবন মৃত্যু জড়িত। মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন ডাক্তারের কাছে যেতে বাধ্য। তাই ডাক্তারি পেশাকে আমি কোন পেশার সাথে তুলনা করতে রাজি নই।
আমাদের দেশের মানুষের নৈতকতা নিয়ে যেহেতু আমাদের সবারই প্রশ্ন আছে কাজেই সব পেশায় শতভাগ স্বাধীনতার সুযোগ এখানে না থাকাই ভাল। বিশেষ করে ডাক্তারি পেশায়, আমি যেহেতু ডাক্তারের কাছে যেতে বাধ্য অতএব ডাক্তার আমাকে তার ইচ্ছা মতো চিকিৎসার সাথে ইচ্ছা মতো ফি চাইতে পারে এবং আমি বাঁচতে চাইলে এই ফি দিয়েই চিকিৎসা নিতে বাধ্য । মানুষের যেখানে বাঁচা মরার প্রশ্ন সেখানে এটাকে কেবল একটি পেশা হিসেবে দেখার সুযোগ নাই। ইন্ডিয়াতে নাকি সরকার চাচ্ছে ডাক্তারের সর্বোচ্চ ফি নির্ধারিত করে দিতে কিন্তু ডাক্তাররা তার বিরোধীতা করছে। একজন উকিল যদি তার ইচ্ছা মতো ফি নিতে পারেন তবে ডাক্তার কেন পারবে না !
প্রশ্নটা খুব সরল আসলেই তো, ব্যবসায়ী যদি তার পন্যের ইচ্ছা মতো দর হাঁকতে পারে,সাংবাদিক যদি ইচ্ছা মতো রোজগার করতে পারে, শিক্ষক যদি ইচ্ছা মতো প্রাইভেট পড়ানোর রেট নির্ধারন করতে পারে তবে ডাক্তার কেন পারবে না!
দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতার প্রশ্নটা এখানেই চলে আসে। দেশে এখনো বহু মানুষ আছে যারা জীবনে কোনদিন একজন উকিলের কাছে যায় নাই,প্রয়োজন পড়ে নাই। একজন সাংবাদিকের কাছে যাই নাই,যেতে হয় নাই। এমন কি শিক্ষকের কাছেও যেতে হয় নাই,দেশে এখনো নিরক্ষরের সংখ্যা অনেক। কিন্তু ডাক্তারের কাছে? এমন সৌভাগ্যবান মনে হয় নাই। তার নিজের না হোক পরিবারের কারো না কারো জন্য ডাক্তারের কাছে দৌড়াতে হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি হলো চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার।

মৌলিক অধিকার তো আরো আছে। খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা । হুম আছে, খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান যেহেতে একজন মানুষ নিজেই যোগার করতে পারে। এমন কি আগে থেকে তার এই চাহিদার কথা অনুমান করতে পারে,প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিতে পারে। শিক্ষার কথা অন্য প্রসঙ্গ,শিক্ষার জন্য কেউ মারা যায়না। কিন্তু চিকিৎসা? একজন মানুষ যেহেতু অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে আগে থেকে ধারনা করতে পারে না, আর এটা নিয়ে অবহেলাও করার সুযোগ নাই,তাই চিকিৎসাকে অন্যদের সাথে মিলিয়ে তালগোল পাকানো যাবে না।
চিকিৎসা পেশার কথা বলার কারন হলো, এই সরকার অন্যান্য প্রকল্পের সাথে মিলিয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অথব স্বাস্থ্য বিষয়ে সরকারের উচিত এই পেশাকে কোন ভাবেই অন্যান্য পেশার সাথে প্রতিযোগীতা করতে না দেয়া। ডাক্তার তৈরির কারখানা গুলোকে আরো বিশেষ সুবিধা দিয়ে ডাক্তার তৈরিতে আরো স্বচ্ছতা,দক্ষতা আনায়ন করা। আমি মনে করি অন্তত ডাক্তার তৈরিতে শতভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রনে রাখা এবং পাশকরা প্রতিটা ডাক্তারকে কোন রকম যান্ত্রীক পরীক্ষার ভিতরে না রেখে প্রত্যেককে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ডাক্তার কোটায় বিসিএস পরীক্ষাটা অহেতুক বলেই মনে হয়। এই পরীক্ষায় কেমন লোক নির্বাচিত করতে পারে তা চারদিকে নজর দিলেই বোঝা যায়।

ডাক্তারি পেশাটা কত গুরুত্বপূর্ণ এটা নতুন করে বলার প্রয়োজন নাই। তার কিভাবে অনৈকিক ভাবে উপার্জন করেন,এটাও উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছিনা। অন্তত একটা পেশাকে সরকার শতভাগ ভেজাল মুক্ত করুক এই প্রত্যাশাই করি।
http://istishon.com/node/9390

শিক্ষা থেকেই শুরুটা করতে হবে

আপনি কখনো যদি দুর্নিতী নিয়ে কথা বলতে শুরু করবেন,তার আর শেষ হবে না। যখন একটি অংশকে দায়ী করবেন তখন দেখবেন এর পেছনে আরো একটি কারন আছে। এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের আলোচনা শেষ হয় রথিমহরথিরাই দুর্নিতী করে। অর্থাৎ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দুর্নিতী আছে তাই দুর্নীতি দূর হচ্ছে না। রাজনৈতিক দুর্নীতিই আসল দুর্নীতি ইত্যাদি।

কিন্তু যদি কথা আসে তাহলে এই দুর্নীতি দূর করতে হলে কোথা থেকে শুরু করতে হবে? সবাই এক কথায় বলবেন রাজনীতি থেকে। কিন্তু কথাটা হাস্যকর। কারন ঐখান থেকে দুর্নীতি হাজার বছরেও দুর করা সম্ভব হবে না। এই নিয়ে আমার চিন্তা ভিন্ন।

প্রতিটা শিক্ষিত মানুষের পেছনে কার অবদান বেশি? প্রতিটা শিক্ষিত মানুষের নৈতকতার তৈরির পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি? নিশ্চয় অভিবাক এবং শিক্ষক। অভিবাককে আমি প্রচ্ছন্নই ধরি কারন ছাত্ররা তার বাবা মায়ের চেয়ে স্যারদের কথাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। প্রতিটা শিশুই বিশ্বাস করে তার বাবামা ভুল করতে পারে কিন্তু শিক্ষক কখনোই ভুল করতে পারে না। আমি চাই কথাটা যেন সব সময়ের জন্য সত্য হয়। সব মানুষ ভুল করতে পারবে কিন্তু শিক্ষক ভুল করতে পারবে না। কারন তিনি শিক্ষক,তার কাজ জাতীকে শিক্ষিত করা। আমার প্রস্তাব কাজটা শুরু করতে হবে শিক্ষা পেশাটা থেকে। একেবারে প্রাথমিক শিক্ষাটা থেকেই।
একজন ইঞ্জিনিয়ার এক সময় ছাত্র ছিল,তিনি শিক্ষকের হাত ধরেই মানুষ,একজন ডাক্তার তিনি শিক্ষকের হাত ধরেই আজ ডাক্তার। একজন রাজনীতিবিদ তিনিও কোন না কোন শিক্ষকের ছাত্র ছিলেন। একজন সাংবাদিক,একজন আইনজীবি, একজন পুলিশ,একজন সেনা অফিসার,একজন আমলা,একজন শিক্ষক,একজন ব্যবসায়ী সবাই সেই প্রাইমারী শিক্ষকের হাত ধরেই এখানে এসেছেন। অতএব আপনি বুকে হাত দিয়ে এই অবদান কি করে অস্বীকার করবেন?ভেবে দেখুন মানুষ হওয়ার পেছনে শিক্ষকের চেয়ে অন্য কোন পেশার এত অবদান নাই।একজন দুর্নীতিবাজও এখান থেকেই বের হয়েছে। সুতরাং আমার ধারনা নৈতিকতার শিক্ষাটা যদি ছোট সময়েই ভাল ভাবে দেয়া যায় তার প্রভাব নিশ্চয় সমগ্র দেশে পরিলক্ষিত হবে! না হলে উপায় কি?

আমি যখন শিক্ষকদের সাথে আড্ডা দেই, যখন রাজনীতি থেকে প্রশাসনের দুর্নীতির কথা বলেন। আমি আঙ্গুল দিয়ে নির্দেশ করে বলি, এর পেছনে আপনারা দায়ী। এই লোক গুলো যাদের আমরা অপছন্দ করি তারা তো আপনার হাতেই একদিন ছিল। কেন আপনি তাকে সেই শিক্ষা দেন নাই!

ভুল বুঝবেন না,এখানে একজন ব্যক্তি শিক্ষককে দায়ী করছি না করছি সিস্টেমটাকে।এই সিষ্টেমটার মৌলিক পরিবর্তন করাই সবচেয়ে জরুরি। কিভাবে হবে এই প্রশ্ন থেকেই যায়। এই নিয়ে অনেক সংগঠন,অনেক বিশেষজ্ঞ,অনেক জ্ঞানী মতামত দিয়েছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেট বাড়ানো। সবচেয়ে মেধাবিদের শিক্ষায় আনতে শিক্ষকের বেতন বাড়িয়ে দেয়া। এক মুখি বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এবং শিক্ষার উপর থেকে রাজনৈতিক থাবা সরিয়ে নেয়া।
http://www.nagorikblog.com/node/14508

এম্পিডক্লিস

এম্পিডক্লিস দর্শনিক,ভবিষৎ দ্রষ্টা এবং বিজ্ঞানী ছিলেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৪০ অব্দে তিনি আবির্ভূত হন। তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন কিন্তু সিসিলী দখল হয়ে যাওয়ার পর তাকে নির্বাসনে পাঠানো হয় কিন্তু তিনি তখন কূটনৈতিকতার চেয়ে আধ্যাতিক পথ বেছে নেন। দর্শন এবং বিজ্ঞানে কিছু মৌলিক কথা তিনি বলেছেন।পারমানাইডির মতো তিনিও তার দর্শন কবিতা আকারে লিখে রাখতেন।
শুন্যস্থান বায়ু দ্বারা পূর্ণ থাকে এটা তিনি আবিষ্কার করেন।পানি ভর্তি একটি বালতি যদি দড়ি বেঁধে চারদিকে ঘোরানো হয় তবে পানি পড়বে না,একে বলে কেন্দ্রানুগ বল, এটা তিনি প্রথম প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন গাছের মধ্যেও স্ত্রী পুরুষ আছে। তিনি বিবর্তন তত্বের কাছা কাছি গিয়েছিলেন। আদিতে অসংখ্য ধরনের প্রাণী বিচরণ করতে তা এখন নাই। কিন্তু এই তত্বটা খুব মজার তিনি বিশ্বাস করতেন আদিতে প্রাণির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো বিচ্ছিন্ন ভাবে বিচরণ করতো। গরু ছাগল,মহিষ,মানুষ ইত্যাদি প্রাণির হাত,পা,মুখ,চোখ মুক্ত ভাবে বিচরণ করতো,তারপর দৈব ভাবে এসব অঙ্গ এক সাথে যুক্ত হয়। তাই অর্ধেক গরু অর্ধেক মানুষ,অর্ধেক মানুষ অর্ধেক হাতি,অর্ধেক সজারু অর্ধেক মহিষ এমন অসংখ্য প্রাণী ছিল। কিন্তু এর মাধ্যে পূর্নাঙ্গ ও যোগ্যরাই টিকে আছে।
জ্যাতির্বিদ্যায়ও তিনি চিন্তা করেছেন। চাঁদ অন্যের আলোতে আলোকিত হয় এটা জানতেন এবং সূর্যও এভাবেই আলো পায় এমনটা বিশ্বাস করতেন। তবে আলো পরিভ্রমনের জন্য সময় লাগে এটা তিনি বুঝতেন। পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে চন্দ্রের অবস্থানের কারনে সূর্যগ্রহন হয় এটা তার জানা ছিল।
তিনিও মাটি পানি বায়ু আগুন এই চারটির উপাদানের বিভিন্ন মিশ্রনে পৃথিবী তৈরি এটা বিশ্বাস করতেন। এই চারটি উপাদান আদি দ্রব্য মনে করতেন তারা প্রেম দ্বারা একত্রিত হন এবং দ্বেষ দ্বারা পৃথক হন। তার চিন্তাচেতনা অনেক বেশি বৈজ্ঞানীক ছিল।
এসব বিজ্ঞান চিন্তার পাশাপাশি তিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবী করতেন। তিনি নানা রকমের অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত করতেন। কথিত আছে তিনি প্রবলায়ুবেগ নিয়ন্ত্রন করতে পারতেন। ৩০দিন পূর্বে মৃত বলে প্রতিয়মান এক মহিলাকে জীবিত করেছিলেন। এবং তার অলৌকিকতা প্রমানের জন্য আগ্নেয়গীরিতে ঝাপ দিয়ে আত্মত্যগ করেন।

নৈতিকতা।

মানুষের নৈতিকতা হচ্ছে তার যে কোন ভৌগলিক অবস্থানে থেকে তার সময়ের প্রচলিত আচারের সাথে সঙ্গতি রেখে করা আচরণ। চিরস্থায়ী নৈতকতা বলতেও কিছু নাই। ধর্মিয় নৈতিকতা বলে কোন সার্বজনিন বিষয়ও থাকতে পারে না। একই ধর্ম অথবা একই দর্শনকে কেন্দ্র করে নৈতিকতা বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তন হতে বাধ্য।১৪০০ বছর আগের কোন ব্যক্তির আচরণ তাই এই সময়ে সঙ্গতীপূর্ণ হতে পারে না। বরং করতে চাওয়াটাই অনৈতিক।